Currently set to Index
Currently set to Follow
Bangla Book Pdf Download (All)

অলাতচক্র Pdf Download আহমদ ছফা

বন্ধুরা, আজকে নিয়ে আসছি অলাতচক্র আহমদ ছফা Pdf free Download latest version link Google Drive । এছাড়াও, সব সময়ের মত বই পড়ুয়া বন্ধুদের অনুরোধ ক্রমে online reading সহ অলাতচক্র পিডিএফ ডাউনলোড লিংক আপডেট করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।

লেখক আহমদ ছফা এর অলাতচক্র বইয়ের বিবরণঃ

  • বই:
    অলাতচক্র
  • লেখক(Author)
    আহমদ ছফা
  • প্রকাশনী(Publisher) ও  ধরণ(type)
    সাহিত্যানুশীলন
  • ফাইল ফরম্যাট (file format):
    epub bangla, MOBI, kindle bangla , Bangla Pdf free Download(ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড)
  • সর্বশেষ প্রকাশ (Last Published Date)
    5th Edition Print, 2021 সাল
  • মোট পৃষ্ঠা (Pages)
    ১২৩ পেজ
  • অঞ্চল ও ভাষা (Content Region & Language)
    বাংলাদেশ
  • ফাইল সাইজ:
    মেগাবাইট

অলাতচক্র আহমদ ছফা Pdf Book Review(বই রিভিউ ও পর্যালোচনা):

অলাতচক্র বইটি লিখা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রিত লেখক দানিয়েল ও ক্যান্সারে আক্রান্ত তাইয়েবার মধ্যকার অস্ফুট ভালবাসা, মানসিক টানাপড়েন,এবং যুদ্ধ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।দানিয়েল দীর্ঘ সাত মাস খোঁজ করার পর বের করে তাইয়েবা কে। এরপর নিত্যদিন তাকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়াই তার প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়ায়। কলকাতা শহরে ভাসমান শ্যাওলা মত ছন্নছাড়া, দয়ায় আশ্রিত অনেকটা ভিক্ষুকের হয়ে ওঠে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়া মানুষ জনের জীবন। এর মাঝেই বয়ে চলে জীবন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির এত ভিন্নতা খুব সম্ভবত আর কোনো গল্প উপন্যাসে এভাবে দেখতে পাওয়া যায় না। যা আসলেই আবেগে আপ্লুত হওয়ার মতো।

কলকাতা শহরে আশ্রয় নেয়া মানুষজনের জীবন বেঁচে থাকার জন্য টিকে থাকার লড়াইয়ে, গল্পের নায়ক দানিয়েলের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়েই যেন নিজের অভিমত ব্যক্ত করেছেন আহমদ ছফা। একদিকে তায়বার জন্য তার দুশ্চিন্তা থাকলে ও  বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ ঘটনার দিকে মোড ঘুরিয়ে যাওয়াটা মন্দ হচ্ছিলো না।

অবস্থা এমনই হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল যে, ভারতীয়রা বাংলাদেশি কমান্ডের সাথে যোগাযোগ না করেই বাংলাদেশী যুবকদের আলাদাভাবে ট্রেনিং দেওয়া শুরু করে দিয়েছিলো। কারো পরিকল্পনার সাথে কারো পরিকল্পনার মিল হচ্ছিলো না। যদিও আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দলের কারণে ভারত সরকার তাজুদ্দীন সাহেবকে প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়েছিল, তবুও কেনো যেন তার উপর শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী আস্থা রাখতে পারছিলেন না। আবার ভারত সরকার তাজুদ্দীন বিরোধীদের হাত ছাড়া করতে চাচ্ছিলেন না। তাজুদ্দীন সাহেব ক নিজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই ভারত সরকারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। আবার অন্যদিকে সীমান্তবর্তী ক্যাম্পগুলাতে মুক্তিযুদ্ধে ট্রেনিং এ থাকা মুক্তিযোদ্ধারা অপেক্ষারত ছিলেন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের আশ্বাস বাণী শোনার জন্য। কিন্তু অস্থায়ী সরকারের পক্ষ থেকে ক্যাম্প পরিদর্শনকারি কেউ ই ভারতীয় হাই কমান্ড অমান্য করার মত সাহস যেন রাখে না। এই অমোঘ সত্যটাই তখন কেউ কাউকে বুঝানোর ছিলেন না ।

অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর কর্মকাণ্ড ছিল অনুমান করার মত না । ভারতীয় জনমত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষোণার পক্ষে ছিল এবং জনগণ চেয়েছিল শ্রীমতী গান্ধী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারকে অনতিবিলম্বে স্বীকৃতি প্রদান করুন। কিন্তু যুদ্ধ বললেই তো আর যুদ্ধ করা অতটা সহজ না।ভারতবর্ষ কি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য একটা বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি নিজেদের কাঁধে তুলে নেওয়া উচিত হবে ? এদিকে চীন আর আমেরিকা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষে। আর মুসলিম দেশসমূহ অধিকাংশই পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল। ভারতীয় একদল জনগণ মনে করে চিরশত্রু পাকিস্তান কে শায়েস্তা করার একটা সুযোগ পাওয়া গেল এবং ভারত সরকারের পক্ষে যুদ্ধ ঘোষনা করা উচিত বলে তারা মনে করছিল। কিন্ত একটা যুদ্ধ যদি সত্যি সত্যি বেঁধে গেলে যদি আবার পাকিস্তানের মিত্র চীন আর আমেরিকা পাকিস্তানের সমর্থনে এগিয়ে আসে, তখন বিশ্বযুদ্ধের সম্ভবনা এড়ানো অসম্ভব।

তাই ভারত সরকার এক শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজছিলেন।
পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে প্রায় এক কোটির বেশি মানুুষ আশ্রয়  নেয় । যারা পাকিস্তানী সৈন্যের বর্বর আক্রমণের মুখে কোনরকম পালিয়ে  ভারত এসেছিলেন। শ্রীমতী গান্ধী বুজতে পেরেছিলেন যে  তার ঘাড়ে একটি যুদ্ধ এসে পড়েছে।যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার ছেয়ে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিপদ তার চাইতে অনেক কম। এই অবস্থায় তিনি রাশিয়াসহ মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমা জার্মানি, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড সফরে  কেন গেলেন তা যেকোনো বুদ্ধিমান জনগনের সামনে তুলে ধারাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে পা রেখেছে। সুতরাং ভারত যা করেছে বাংলাদেশ তা মেনে নিতে বাধ্য।বাঙালি জাতির স্বাধীনতার জন্য, বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ভারত অবদান রেখেছে , যতই স্বার্থ থাকে থাকুক না কেন।
ভারতে আশ্রিত সবাই নিজ দেশের মাটিতে ফিরে যেতে আকুল,স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য উদগ্রীব। যে বাংলাদেশ ১৯৪৮ সাল থেকেই পাকিস্থানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে,ভারত-পাকিস্থান যুদ্ধ এই বাইশ বছরের রক্তাক্ত সংগ্রামের ইতিহাস কোন দিকে মোড় নিবে কে জানত?

স্বল্প মূল্য দিয়ে কিনে আনা রত্ন লেখক আহমদ ছফা এর অলাতচক্র বইয়ের রিভিউ ও পর্যালোচনা করতে বেশ ভালই লাগছে, যেখানে বইটির প্রকাশনীর প্রিন্ট কোয়ালিটি ও প্রচ্ছদ ভালই ছিল।

নিঃসন্দেহে সংগ্রহে রাখার মত এ বইয়ের পরিচয় জানা অর্থাৎ বইটির ভূমিকা লিখেছেন লেখক আহমদ ছফা নিজেই, যেখানে লেখক যথার্থ লেখনশৈলী উপহার দিয়েছেন।

অলাতচক্র বইটিতে অনেক শিক্ষণীয় ব্যাপার আছে যা আমাদের জীবন রাঙানোর জন্য হলেও সুপাঠ্য ও বন্ধু মহলে উপহার দেওয়ার মত সবথেকে বেশি প্রাসঙ্গিক বই হবে বলে মনে হয়। আমার খুব প্রিয় একজন লেখক আহমদ ছফা, সুযোগ হলে উনার এই অনবদ্য বইটি পড়বেন। এই বই থেকে যেমন কিশোর পাঠকরা পাবে রোমাঞ্চকর অনুভূতি তেমনি অন্য পাঠকরা পাবেন কঠিন বাস্তবতার সন্ধান। লেখক আহমদ ছফা এর দূরদর্শিতা লেখার ঘটনা পাঠক মনে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে এবং তাঁর নিখুঁত উপস্থাপন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠককে একটা টেনশনের মধ্যে রাখতে পেরেছে ও অলাতচক্র বইটিকে বাস্তব করে তুলেছে।

ভালোবাসার এ অলাতচক্র বইটি যেন আপনার সুসময় ও দুঃসময়ের বন্ধু হতে পারে এ শুভ কামনা।

অলাতচক্র বইয়ের এই সংস্করণটি মোটামুটি ছোট, খুব দ্রুত পড়ে শেষ করা যায় যার কারণে কাহিনী নিয়ে আমি তেমন কিছু লিখলাম না। লেখক আহমদ ছফা এর এই বই পড়ে এবং আমার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আলোচনা করে আমার যে ধারনা হলো তা থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে লিখলাম। অলাতচক্র বই টা না পড়লে এই কঠিন সত্যের সম্মুখীন হওয়া কিংবা রোমাঞ্চকর সেই অনুভূতি পাওয়া সম্ভব নয়।

  1. অলাতচক্র পিডিএফ ডাউনলোড by আহমদ ছফা লিংক(pdf):
    Download

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button